Ticker

6/recent/ticker-posts

বাস্তব চিত্র (সমাজের টানাপড়েন)

সম্পর্ক সুন্দর করতে কিছু কম্প্রোমাইজ করাই সঠিক।
 Compromise in relationship



দিন দিন সম্পর্কগুলো কেমন জানি ফিকে হয়ে যাচ্ছে; কোনকিছুতেই জেনো স্বস্তি নেই। দিন দিন খুব বড় পরিসরে ডিভোর্সের হারটাও কেমন জানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেয়েদেরকে বলতে শোনা যায় ছেলেদের জন্য নাকি সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় আবার, ছেলেদের থেকে শোনা যায় মেয়েদের জন্য নাকি সম্পর্কে ফাটল ধরে! আসলে কার জন্য যে কি হয়? কি হচ্ছে সেটা খুজে বের করা জেনো দুজনেরই পাহাড় সমান কষ্ট।

    তবে দিন দিন যে ডিভোর্সের হার বেড়ে যাচ্ছে সেইদিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সমীক্ষা অনুযায়ী মেয়েদের থেকে ডিভোর্সের হার বেশি প্রায় ৭০% যেখানে পুরুষদের থেকে ৩০%; আগে খুব শোনা যেতো ডিভোর্সের মূল কারন নাকি যৌতুক, যৌতুক দিতে না পারলে স্বামী অথবা স্বামীর বাড়ীর লোকেরা নাকি খুব অত্যাচার করতো ফলে অনেক নারীর ক্ষেত্রে ডিভোর্সটাই উত্তম পন্থা হতো, অনেকে আত্মহত্যা করতো বলেও শোনা গেছে এখনো হয়ত এইসব চালু আছে;

    কিন্তু আসলেই যে ডিভোর্সের হার কেনো বেরেই চলেছে সেটাই খুজে বের করা কঠিন। ডিভোর্স অনেক কারনেই হতে পারে- যেমনঃ স্বামী- স্ত্রী সুন্দর মত দুজন দুজনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা, এর মধ্যে দুজন দুজনকে সময় দেওয়া এটাও বিশাল একটা ব্যাপার হয়ে দাড়ায়; বর্তমান বিশ্বে কেউই বসে নেই হোক সেটা পুরুষ হোক সেটা নারী। কাজের চাপ, ব্যস্ত সময় এর পর আর কোন সময় থাকে না দুজন দুজনের জন্য যার ফলে অনেক সময় সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়ে যায়। অনেকের মুখে বলতে শোনা যায় সময় কোন বিষয় নয় যে থাকার সে এমনিতেই থেকে যাবে যেটা অনেকাংশেই ভুল ধারণা; কারন যেকোন জিনিস যত্নেই পরিধি বাড়ে হোক সেটা সম্পর্ক আর হোক সেটা ছোট চারাগাছ। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুজন- দুইজনকে বুঝতে পারা! দুজনের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকা উচিত সম্পর্কে যে শুধু একজন বুঝে যাবে আর অন্যজন এরিয়ে যাবে সেটা মোটেও গ্রহনযোগ্য নয়।
এখনকার যুগে দেখা যায়, নারীরা সব দিক থেকে এগিয়ে কিন্তু কিছু কিছু নারীদের মধ্যে এই এগিয়ে যাওয়াটাকে দেখা যায় অনেকটাই অহংকারের জায়গায় তৈরি করে দেয়; যার ফলে অনেকের সম্পর্কেই ফাটল ধরে কেউ বুঝতে পেরে সব কিছু মানিয়ে নিয়ে সম্পর্ক সুন্দর করার চেষ্টা করে আবার অনেকে বুঝে নিজের সফলতা, এগিয়ে যাওয়াটাকে দাম্ভিক মনে করে সব কিছু মানিয়ে নিতে না পেরে ডিভোর্সের পথ খুজে নেয়।
    কোন সম্পর্ক যদি মেয়েদের একটুখানি কম্প্রোমাইজ এর কারণে সুন্দরতা ধারণ করে তাহলে সেই একটুখানি কম্প্রোমাইজ করাতে দোষের কিছু নেই। কারন আপনি যতই সফল হোন না কেনো দিন শেষে কেউ একজন আপনার পাশে চাই যার কাছে আপনি আপনার পুরোটা অনায়াসে মন খুলে বলতে পারেন।
একজন নারী যখন তার স্বামীর বিরুদ্ধে যায় তখন আমরা পুরুষবাদী হয়ে যাই ধরে নেই নিশ্চয়ই পুরুষটার সমস্যা অন্যদিকে, কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যায় তখনও আমরা পুরুষবাদী হয়ে যাই তখনও আমরা বলি আসলেই পুরুষটার সমস্যা; কেউ কিন্তু আসল বিষয়টা জানতে চাই না সেটা নিয়ে মাথাও ঘামাই না কারন একটাই বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ নারীরা সব দিক থেকে এগিয়ে।

    অন্যদিকে, পুরুষ চাইবে তার স্ত্রী স্বাবলম্বী হোক, কিছু একটা করুক শুধু শুধু বসে না থাকুক সব কিছুর মধ্যে সেই পুরুষই চাইবে স্ত্রী যাতে স্বামীর যত্ন নেক সংসার করুক; একটু পরখ করলে দেখা যায়, সেই স্ত্রী যখন ঐ- যে কিছু একটা করতে গিয়ে সংসারটাই ঠিক মত করতে না পারে তখন সব দোষ স্ত্রীর। তবে নারীরা এটা ভুলে যায় স্বামী বলছে নিজে কিছু করো, নিজের পায়ে দাড়াও এর মানে এই নয় যে তুমি সংসার, স্বামীকে বাদ রেখে; এই ছোট খাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকেই একটা পর্যায়ে ডিভোর্সের বিষয় চলে আসে।
আদি যুগ থেকে সব কিছুতেই পুরুষের রাজত্ব নারীরা এটা বুঝতে প্রস্তুত নয়, তবে হ্যাঁ সেটা যদি অন্যায় রাজত্ব হয় তাহলে সেটা নিয়ে পুরুষবাদী হওয়া দোষের কিছু নয়। পুরুষরা রাজত্ব করবে কিন্তু সেটা যাতে অন্যায়, অত্যাচারে পরিণত না হয়। তবে, সম্পর্কে, সংসার জীবনে পুরুষের থেকে নারীর অবদান, ত্যাগ বেশি থাকাটাই বাঞ্ছনীয় দিন শেষে সম্পর্কে দুজন- দুজনকে বুঝতে পারাটাই বুদ্ধিমানের কাজ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে।
এত কিছুর মধ্যে সহ্য ক্ষমতা থাকাটাও কিন্তু অসম্ভব ভাবে প্রয়োজন। সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন এমনিতেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।





Facebook Profile link: https://www.facebook.com/Asin.champa/
Facebook Page link: https://www.facebook.com/Asin432/

কবিতার পেজ : https://www.facebook.com/asinspage

ইউটিউব লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/channel/UCQYjjP7-qs9bNo_q9U8EOpw

লেখাঃ চম্পা আক্তার



Post a Comment

0 Comments