বাইরে থেকে যে মানুষটাকে আপনি দেখেন খুব হাস্যজ্বল সময় কাটাচ্ছে, মন খুলে কথা বলছে, নিজেকে হাসির মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে, আপনার সাথে প্রান খুলে কথা বলছে এইযে এত কিছুর ভিড়ে, আদৌ কি সেই মানুষটি এমন? আসলেই কি মানুষটি খুব হাস্যজ্বল? আসলেই কি মানুষটি খুব সুখে আছে, সে কি পারে নিজেকে দিন শেষে প্রশ্ন করতে যে আসলেই কি তুই এমন যেমনটা মানুষকে দেখাস?
বাইরে থেকে দেখে যে মানুষগুলোকে খুব হাস্যজ্বল, প্রাণবন্ত মনে হয় একটু সময় পেলে খোঁজ নিয়ে দেখবেন সেই হয়ত খুব দুঃখী মানুষ, সেই হয়ত কোন না কোন ভাবে ব্যথিত, কোন না কোনভাবে কারো দ্বারা পীড়িত।
দিন শেষে এইসব মানুষগুলোর খবর নেওয়ার মত সময় কারোর থাকে না;
হাজারো প্রস্ন ভিড় করে; তুমি কেনো এটা করলে এটা আমার পছন্দ না, কেনো সেখানে গেলে এটা ভালো না, এইটা করলে ভালো হত, ওটা করলে ভালো হত কিন্তু দিন শেষে সেই মানুষটা আসলেই কেমন আছে সেই খবর নেওয়ার সময় নেই কারোর।
কেউ দিন গুনে যায় যে, তার পছন্দের মানুষটি তাকে শাসন করবে, বকবে, বলবে এটা কেনো করেছো, ওটা কেনো করেছো হাজারো প্রশ্ন?
ঠিক সেই মানুষটিই আবার অপেক্ষায় থাকে যে, দিন শেষে পছন্দের মানুষটি তার খবর নিবে শুধু এইটুকু বলে, যে তুমি কেমন আছো?
তাতেই যেন স্বস্তি ।
যেই মানুষটি মনের অগোচরে তোমার শাসনকে আপন করতে চায়, তোমার বকা দেওয়াগুলোকে ভালোবেসে বেধে রাখতে চায়, তোমার অবহেলাকে ঠেলে তোমার সাথে থাকতে চায়, তোমার শত অভিযোগের পরও তোমাকে ছেড়ে না যাওয়ার কথা ভাবে সেই মানুষটি আর যাই করুক তোমাকে ধোঁকা দিবে না। সবাই চলে গেলেও সেই মানুষটি কিন্তু থেকে যাবে।
বরং চাইবে তুমি যাতে আরো শাসন করো, আরো অভিযোগ দ্বার করাও।
বাস্তবতার বেড়াজালে আমরা কেউ না কেউ বাধা, হয়ত কেউ বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যায়, আবার কেউ বাস্তবতার কাছে হেরে গিয়ে থেমে যায়। এর নাম জীবন কিনা জানিনা ? তবে, এই ধরনের মানুষগুলো কখনো আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবে না আর কোনদিন ভাববেও না এইটুকু বিশ্বাস রাখা দোষের কিছু না। অনেককেই তো বিশ্বাস করেন, আবার ঠোকেও যান তাহলে একটু বিশ্বাস পছন্দের মানুষটিকেও করে দেখুন না। তাতে দোষ কি?

0 Comments
Please do not share any link below the post